1. kamrulcse1@gmail.com : janatarkontho_24 : জনতারকণ্ঠ
  2. mostufakamalbd@gmail.com : মোস্তফা কামাল : মোস্তফা কামাল
  3. shariful.ja81@gmail.com : মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম : মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম
শনিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ১০:১৮ অপরাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি :
আপনার আশপাশে ঘটে যাওয়া যেকোনো ঘটনা বা যেকোনো বিষয়ে জনতারকণ্ঠে লিখে পাঠান।। লেখা পাঠাতে ইমেইল করুন : newsjanatarkontho@gmail.com

বেরিয়ে আসছে মেয়র জাহাঙ্গীরের থলের বিড়াল, মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ভুক্তভোগীরা

  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২২ নভেম্বর, ২০২১, সময়: ৬:৪৭ pm
  • ৫ বার

জনতার কণ্ঠ ২৪.কম

গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক ও সিটি করপোরেশন মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তার এবং অনুসারীদের হাতে নির্যাতনের শিকার ভুক্তভোগীরা। কোনাপাড়ায় বন্ধ হয়ে যাওয়া এনটিকেসি গার্মেন্টসের (যা দখল করে নিয়েছিলেন মেয়র জাহাঙ্গীর) প্রায় শতাধিক শ্রমিক আছেন, যারা সঞ্চয়ের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে মামলা করতে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন গাজীপুরের পাঁচ কাউন্সিলরও। একটি ভিডিও ক্লিপে তাদের সরাসরি হত্যার হুমকি দেওয়ায় তারা মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন। পাঁচ কাউন্সিলর হচ্ছেন—৫০ নম্বর ওয়ার্ডের আবু বক্কর, ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের আবদুল্লাহ আল মামুন মণ্ডল, ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের নুরুল ইসলাম, কাউন্সিলর আমজাদ হোসেন ও ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের শাহজাহান মিয়া সাজু। শাহজাহান সাজু বলেন, ‘আমাদের জীবননাশের হুমকি দিয়েছে মেয়র। মামলা করার চিন্তা করছি।’

ঝুট ব্যবসার নামে গার্মেন্টস দখল

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মেয়র হওয়ার আগে জাহাঙ্গীর এনটিকেসি গার্মেন্টসে ঝুট ব্যবসা করতেন। মেয়র হওয়ার পর প্রভাব খাটানোর মাত্রা আরও বাড়ান তিনি। পরে ২০২০ সালে ওই গার্মেন্ট মালিককে মালিকানা বদলে বাধ্য করেন। তখন শ্রমিকদের বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রতি দিলেও সেটা আজ পর্যন্ত দেননি। দিনে দিনে জাহাঙ্গীর আরও ক্ষমতাবান হয়ে ওঠায় কোনও শ্রমিক উচ্চবাচ্যও করার সাহস পায়নি।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে মামলা করবেন রাস্তার নামে জমি অধিগ্রহণের শিকার গাজীপুরের আরও কয়েকজন। কথা হয় পুবাইল ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের জমির মালিক সড়ক ও জনপথ বিভাগের সাবেক প্রকৌশলী ফাইজুর রহমানের মেয়ের জামাই শেখ মাহাবুবের সঙ্গে। তিনি জনতার কন্ঠকে বলেন, আমার শ্বশুর ফাইজুর রহমানের বাড়ির গেট ভেঙে জায়গা দখল করে মেয়র জাহাঙ্গীরের অনুসারী কাউন্সিলর আজিজুর রহমান শিরিশ। সিটি করপোরেশনের ম্যাপে ওই রাস্তা ১০ ফুট। কিন্তু কাউন্সিলর ৩০ ফুট রাস্তা করা হবে বলে সিটি করপোরেশনের লোকজন দিয়ে বাড়ির গেট ভেঙে জমি দখলে নেয়। ব্যক্তিগত আক্রোশেই তিনি এ কাজ করেছেন। তিনি বলেন, এই বিষয়ে আইনি বিষয়গুলো জেনে মেয়রের বিরুদ্ধে মামলার চেষ্টা করছি।

একই ওয়ার্ডের সাদীর মোল্লার জমি দখলের অভিযোগও উঠেছে কাউন্সিলর শিরিশের বিরুদ্ধে। সাদীর মোল্লা বলেন, খোরাইদ রাস্তা চওড়া করার নামে আমার স্থাবর সম্পত্তি দখল করে নিয়েছে মেয়র। ক্ষতিপূরণ দেয়নি। আমি এর বিচার চাইবো। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার আরেকজন বলেন, মেঘডুবি প্রাইমারি স্কুলের সামনের ৩০ ফুট রাস্তা করার নামে তার ৮ কাঠা জমি দখল করা হয়েছে। কিন্তু সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ওই জায়গার মূল্য তাকে দেওয়া হয়নি। তিনিও মামলা করার কথা ভাবছেন।

ঠিকাদারদের লাইসেন্স নবায়ন করতে দেননি

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত তিন বছরে পুরনো কোনও ঠিকাদারের লাইসেন্স নবায়ন করতে দেননি মেয়র। নতুন লাইসেন্স দিয়েছেন নিজের অনুসারীদের। এমনকি রাজনৈতিক ইতিহাস বা পূর্ব অভিজ্ঞতাও বিবেচনা করেননি তিনি। মেয়রের কাছ থেকে এ সুযোগ পেয়েছে ছাত্রদল ও বিএনপির রুহুল আমিনও। তিনিও আজ শত কোটি টাকার মালিক। জাহাঙ্গীরের সবচেয়ে কাছের লোক হিসেবে খ্যাত রুহুল আমিন। রাজনৈতিক পরিচয় না থাকলেও আশরাফুল আলম রানাও নতুন ঠিকাদার হয়ে কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। মনির ও হাজী মনির নামে আরও দুজন মেয়রের আশীর্বাদে হয়েছেন আঙুল ফুলে কলা গাছ। এর মধ্যে মনির আবার গাজীপুরের আলোচিত প্রকৌশলী হত্যা মামলার আসামিও।

কেন রাস্তায় মনোযোগী মেয়র?

সিটি করপোরেশনের অন্য কাজ বাদ দিয়ে রাস্তার দিকেই কেন বেশি নজর ছিল মেয়রের? অনুসন্ধানে জানা গেছে, জাহাঙ্গীর ও অনুসারীদের টাকা কামানোর বড় উৎসই ছিল রাস্তা। নতুন রাস্তা বানিয়ে সাধারণ মানুষের নজর কাড়তে চেয়েছেন তিনি। অন্যদিকে ঠিকাদারির কমিশনের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের বড় মাধ্যমও হয়ে ওঠে ওই রাস্তা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিভিন্ন এলাকা থেকে সস্তায় ইট কিনতেন জাহাঙ্গীর। রাস্তার কাজে তার কেনা ওই ইটই চড়া দামে বিক্রি করতেন। রাস্তার কাজে ভূমি অধিগ্রহণ করেও মোটা অঙ্কের আয় করার সুযোগ নেন জাহাঙ্গীর ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। অধিগ্রহণের নামে জমি নিয়ে কোনও ভূমির মালিককেই ন্যায্যমূল্য দেননি জাহাঙ্গীর। উল্টো রাস্তার কাজ দেখিয়ে জনপ্রিয়তা বাড়ানোর চেষ্টায় ছিলেন তিনি।

আত্মসাৎ করেছেন ডেকোরেটরের ভাড়াও

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ডেকোরেটর ব্যবসায়ীর পাওনাও দেননি জাহাঙ্গীর। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে একটি ডেকোরেটর প্রতিষ্ঠান থেকে জিনিসপত্র ভাড়ায় নিতেন মেয়র জাহাঙ্গীর। অনুষ্ঠান শেষে ভাড়ার টাকা চাইতে গেলে জাহাঙ্গীরের সহকারী সাইদুল ডেকোরেটরের মালিককে জানাতেন, দলীয় অনুষ্ঠানের জন্য কীসের ভাড়া? ভয়ে ওই ডেকোরেটর মালিক দ্বিতীয়বার ভাড়া চাইতেন না।

ডেকোরেটরটির মালিক বলেন, গত বছরের ৩১ আগস্ট দলীয় একটি অনুষ্ঠানে ওরা ৫৮ হাজার টাকার মালামাল নিয়ে যায়। ১৬ ডিসেম্বরের একটি অনুষ্ঠানেও নিয়ে যায়। ৪৩ হাজার টাকার মালামালের ক্ষতি হয়। ভাড়া তো দূরে থাক, ক্ষতিপূরণও পাইনি। এরপর মেয়রের বাড়িতে আরেকটি অনুষ্ঠানের জন্য প্রায় ৪ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে যায়। কয়েক দফা চাওয়ার পর কয়েক কিস্তিতে ৮৯ হাজার টাকা পেয়েছি মাত্র।

মোবাইল এসএমএস-এ বাকি ৩০ লাখ!

আনিসুর রহমান আনিস নামের এক এসএমএস সেবাদানকারী ব্যবসায়ীর দাবি, তিনি ৩০ লাখ টাকা পান মেয়র জাহাঙ্গীরের কাছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিভিন্ন দিবসে মোবাইলে মেসেজ পাঠিয়েই মূলত পরিচিতি পান জাহাঙ্গীর। ২০০৮-০৯ সাল থেকেই নিয়মিত মেসেজ পাঠাতেন তিনি। ওই কাজেই এখন পর্যন্ত ৩০ লাখ টাকা বাকি পড়েছে বলে জানান আনিসুর।

মাস্টাররোলে চাকরি দিতেন বিলবোর্ড কারিগরদের

ঢাকা বা অন্য এলাকা থেকে বিলবোর্ড তৈরি করে সেটা গাজীপুরে আনা হলেও সেগুলো রাতারাতি উচ্ছেদ করার নির্দেশ ছিল মেয়রের। অন্য কারও বিলবোর্ড বানানোর সুযোগ না রাখতে শহরের বিলবোর্ড কারিগরদের সিটি করপোরেশনে মাস্টাররোলে চাকরি দেন জাহাঙ্গীর।

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..